আমাদের সম্পর্কে
ঐতিহাসিক পটভূমি, মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা, সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিচয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।
সংগঠনের পরিচিতি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের অধীন একটি প্রজন্মভিত্তিক সাংগঠনিক ধারা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ভিত্তিতে প্রজন্মের অংশগ্রহণকে সংগঠিত করাই এর মূল পরিচয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের ইতিহাস ঔপনিবেশিক শোষণ, কৃষক-জনতার আন্দোলন, ভাষার অধিকার, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং স্বাধীনতার দীর্ঘ লড়াইয়ে গঠিত। ১৭৫৭ সালের পর থেকে রাজনৈতিক আধিপত্য, শোষণ ও প্রতিরোধের ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা এ ভূখণ্ডে আত্মপরিচয়, স্বাধিকারের বোধ এবং সংগঠিত প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে।
সিপাহী বিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনতার অধিকারের দাবি ক্রমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রচেতনায় পরিণত হয়।
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় চেতনা
১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে জাতি সশস্ত্র প্রতিরোধে উঠে দাঁড়ায়। স্বাধীনতার ঘোষণা, সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত ভিত্তি রচনা করে।
এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে একটি সুস্পষ্ট সাংগঠনিক অবস্থান গড়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠার পটভূমি
সংগঠনের প্রেরণায় রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিকামী জনতা, গণতন্ত্রপ্রেমী নাগরিক এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক শক্তির মধ্যে ঐক্য গঠনের আকাঙ্ক্ষা। দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রয়োজন থেকে একটি সুশৃঙ্খল, নীতিভিত্তিক, দলিল-নির্ভর সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজন অনুভূত হয়।
প্রতিষ্ঠাকাল ও অঙ্গীকার
১৯৮৯ সালের ১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার ধারাকে সামনে রেখে সংগঠনের পরিচয়, নীতিমালা, ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র এবং সাংগঠনিক কাঠামো জনসম্মুখে তুলে ধরা হয়। লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত অলঙ্কারপূর্ণ ভাষা নয়, বরং দলিলভিত্তিক পরিচয় ও নাগরিকের জন্য সহজবোধ্য দাপ্তরিক ভাষা নিশ্চিত করা।